করোনা ভাইরাস আপডেট: করোনা ভাইরাস রুপ বদলায় কেন?

করোনা ভাইরাস আপডেট

আমরা দেখছি, প্রথম দিকে করােনাভাইরাস যে ধরনের ছিল, পরে তার রূপ কয়েকবার বদলেছে, যাকে আমরা বলি ভাইরাসের মিউটেশন। ইউরােপ বা যুক্তরাষ্ট্রে যেমন, আমাদের দেশে ঠিক একই ধরনের নয়। আবার একই দেশে অল্প সময়ের ব্যবধানে করােনাভাইরাসের মিউটেশন ঘটছে। কখনাে দেখা গেছে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ তীব্রতর, আবার কারও কারও ক্ষেত্রে হালকা। আবার কখনাে সংক্রমণের লক্ষণ সুপ্ত থেকে যায়। কেন এ রকম হয়, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।

শুধু করােনাভাইরাসের ক্ষেত্রেই নয়, অন্য কিছু ভাইরাসেরও মিউটেশন ঘটে। যেমন ফ্লু হয় আরএনএ ভাইরাস থেকে। এর দ্রুত মিউটেশন। ঘটে বলে প্রতিবছর ফ্লুর টিকা নিতে হয়। কোনাে ভাইরাসের মিউটেশন হবে কি না, তা নির্ভর করে ভাইরাসের ভেতরের জেনেটিক উপাদানের ওপর। করােনার মিউটেশন-সক্ষমতার একটি কারণ হতে পারে এই যে এটি একটি আরএনএ ভাইরাস। এই ভাইরাসের একটি স্ট্রিং থাকে। কিন্তু ডিএনএ ভাইরাসের দুটি স্ট্রিং প্যাচানাে মইয়ের মতাে (ডাবল হেলিক্স) বিস্তৃত্ব।

আরও পড়ুন: চিরতরে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায়

আরএনএ ভাইরাস শ্বাসতন্ত্রের সেলের ভেতর ঢুকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে তার নিজস্ব উপাদানের অনুরূপ। স্ট্রিং তৈরি করতে থাকে। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় যদি কোনাে ভুল বা স্ট্রিংয়ের গঠনে পরিবর্তন ঘটে, তাহলে তা সংশােধনের কোনাে উপায় থাকে না।

এভাবে নতুন স্ট্রেইন তৈরি হয়। তাই আরএনএ ভাইরাসের টিকা তৈরিও কঠিন। কিন্তু ডিএনএ ভাইরাসের ডাবল স্ট্রিং থাকায় একটি স্ট্রিংয়ের রূপে পরিবর্তন বা মিউটেশন ঘটলে দ্বিতীয় স্ট্রিং সেই ভুল সংকেত গ্রহণ করে না এবং ওই ভাইরাস অকার্যকর হয়ে পড়ে। কারণ, ডিএনএ ভাইরাসের দুটি পার্টের শুধু একটি যদি মিউটেশনের সংকেত দেয়, তাহলে হাইড্রোজেন বন্ডিং হয় না। তখন একধরনের এনজাইম এসে সৃষ্ট পার্থক্য সমন্বয়ের চেষ্টা করে। সমন্বয়ে ব্যর্থ হলে ভাইরাসের ওই অংশ পরিত্যক্ত হয়। মিউটেশন সম্ভব হয় না। তাই এ ধরনের ডিএনএ ভাইরাসের টিকা তৈরি এবং তা প্রয়ােগ করে ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। গুটিবসন্ত এ রকম একটি ডিএনএ ভাইরাস, যার টিকা প্রয়ােগ করে ভাইরাসটি একেবারে বিলােপ করা সম্ভব হয়েছে।

করোনা ভাইরাস আপডেট

করোনা ভাইরাস সম্পর্কে

অন্যদিকে আরএনএ ভাইরাসের সংক্রমণ হয়তাে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, কিন্তু একেবারে। বিলােপ করা কঠিন। নতুন নতুন মিউটেশনের ফলে ঘুরেফিরে বিভিন্ন ঋতুতে সংক্রমণের জের দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। যদিও এর তীব্রতা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

সুচবিহীন ইনজেকশন। কোভিড-১৯-এর টিকা আবিষ্কারে অগ্রগতি হচ্ছে। হয়তাে কয়েক মাসের মধ্যেই টিকা এসে যাবে। এরপর শত শত কোটি টিকা সব দেশে সবার জন্য পৌঁছানাে কম কথা নয়। সময় লাগবে। তারপর আরও সমস্যা হলাে কোল্ড চেইন মেনে কম তাপমাত্রায় রেখে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেই টিকা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু তারপরও সমস্যা একটি আছে। সুই দিয়ে ইনজেকশন। এ জন্য নিরাপদ, ওয়ানটাইম সিরিঞ্জ মানে কোটি কোটি সিরিঞ্জও লাগবে।

আরও পড়ুন: বেশি পেঁয়াজ খাওয়ার ৭টি ক্ষতিকর প্রভাব।। স্বাস্থ্য টিপস

এর জোগাড়যন্ত্র এখন থেকেই শুরু করা দরকার বলে আমাদের দেশের / করােনাভাইরাস প্রতিরােধ জাতীয় কমিটিতে আলােচনা হয়েছে। সুতরাং টিকা আবিষ্কারই যথেষ্ট নয়, এর সুফল পাওয়ার জন্যও সময়ের মধ্যেই ত্বকের ভেতরে ঢুকে রক্তে মিশে যাবে। কোনাে সুই ফোটানাের দরকার নেই। এমনকি কোল্ড চেইনেরও দরকার নেই। কারণ, প্রায় ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায়ও টিকার কার্যকারিতা নষ্ট হয় না। এক বছর পর্যন্ত এর মেয়াদ থাকে।

করোনা ভাইরাস আপডেট: করোনা ভাইরাসের টিকা কবে বেরোবে

স্ট্রিপ ব্যান্ডেজটিই টিকা একেকটি দেশের গ্রামে নিমেষে টিকা পৌঁছে যাবে। এই টিকা দিতে চিকিৎসকও লাগবে না। নিজেই নিজের টিকা দিতে পারবেন। বলা যায়, ‘টিকা বিপ্লব’ হতে যাচ্ছে। এখানে সমস্যা হলাে, টিকার উপাদানগুলাে চুইয়ে ত্বক ভেদ করে ঠিকভাবে ভেতরে ঢােকানাে। আমরা সাধারণত মনে করি, ত্বক যেকোনাে তরল শুষে নিয়ে রক্তে মিশিয়ে দেয়, কিন্তু এ ধারণা ভুল। ত্বকের নিচেই ’স্ট্রাটাম কর্নিয়াম’ (stratum corneum) GTS একটি খুব পাতলা আচ্ছাদনের মতাে পর্দা আছে। এটি বাইরের কোনাে তরল বা ঘন পদার্থ ত্বক ভেদ করে ভেতরে যেতে বাধা দেয়। তাই গবেষকেরা একটি নতুন উপায় উদ্ভাবন করেছেন। স্ট্রিপ ব্যান্ডেজের ভেতরে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র শ খানেক অতি সূক্ষ্ম সুই এমনভাবে সাজানাে থাকে যে ওরা ধীরে ধীরে ত্বকের ঔাটাম কর্নিয়াম ভেদ করে টিকার সব উপাদান ভেতরে চালান করে। টিকা গ্রহণকারী টেরও পান না কীভাবে কী হচ্ছে। ব্যথা-বেদনা নেই কিছু সময় পর স্ট্রিপ ব্যান্ডেজটি খুলে ডাস্টবিনে ফেলে দিলেই হয়ে গেল। টিকার ওষুধের শিশি বা ডিসপােজেবল সিরিঞ্জ স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ডাম্পিংয়ের সমস্যাও থাকবে না। | তিন বছর আগে বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, এ ধরনের টিকা বাজারে আসতে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। তাহলে আমরা আশা করতে পারি, ২০২২ সালের মধ্যে প্যাচ ব্যান্ডেজ টিকা আমাদের। হাতে এসে যাবে। এ ধরনের টিকার সাফল্য সম্পর্কে ‘দ্য কনভারসেশন’ ম্যাগাজিনও গত ১১ এপ্রিল একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।

Related Articles

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

21,476FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles