গাড়ি বিক্রয়কর্মীর সন্তান থেকে প্রেসিডেন্ট

জো বাইডনের জীবনী

জো বাইডনের জীবনী

পুরাে নাম জোসেফ রবিনেট বাইডেন জুনিয়র। জো বাইডেন নামেই তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কম বয়সী সিনেটরদের মধ্যে অন্যতম তিনি।

১৯৭২ সালে ডমােক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হয়ে মাত্র ২৯ বছর বয়সে দেশটির সিনেটর নির্বাচিত হন তিনি। এর প্রায় ৫০ বছর পর এবার তিনি নির্বাচিত হলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে। আর এর মাধ্যমে ৭৭ বছর বয়সী বাইডেন হতে চলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রেসিডেন্ট। তবে তার এই ৭৭ বছরের জীবনে তাকে পার করতে হয়েছে অসংখ্য বেদনাবিধুর মুহূর্ত।

জো বাইডেন ছিলেন আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সন্তান। তার বাবা ছিলেন গাড়ি বিক্রয়কর্মী। ১৯৬৫ সালে ডেলাওয়ার ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন বাইডেন। এরপর আইন বিষয়ে পড়াশােনা করেন। ১৯৬৬ সালে বিয়ে করেন প্রথম স্ত্রী নিলিয়া হান্টারকে। ১৯৭২ সালে সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পরই এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী। নিলিয়া ও মেয়ে নাওমিকে হারান বাইডেন। গুরুতর আহত হন দুই ছেলে হান্টার বাইডেন ও বাে বাইডেন। এই সময় মানসিকভাবে একেবারেই ভেঙে পড়েছিলেন জো বাইডেন।

সেই শােক কাটিয়ে ১৯৭৭ সালে বিয়ে করেন জিল জ্যাকবসকে। এরপর ১৯৭৮ ও ১৯৮৪ সালে আরও দুবার সিনেটর নির্বাচিত হন বাইডেন। কিন্তু ১৯৮৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে হেরে যান। ২০০৮ সালে আবারও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এবার আবারও ব্যর্থ হন।

প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার মনােনয়ন পেয়ে যান সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তবে ওবামা প্রার্থী হয়েই জো বাইডেনকে রানিং মেট ঘােষণা করেন। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বাইডেনের শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে কাজ। কিন্তু ২০১৫ সালে বড় ছেলে বাে বাইডেনের মৃত্যুতে তাঁর জীবনে আসে আরেকটি ধাক্কা। এবারও শােক ভুলে রাজনীতিতে সক্রিয় হন জো বাইডেন। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও দলের মনােনয়ন চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার সাবেক ফার্স্ট লেডি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন মনােনয়ন পান। অবশেষে ২০২০ সালের নির্বাচনে এসে পেয়ে যান দলের কাঙ্ক্ষিত মনােনয়ন। শুধু তা-ই নয়, বিপুল ভােটে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে থেকে হােয়াইট হাউসের পথ সুগম করেও ফেলেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here